145dba
অজানা তথ্য

লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মা: এক বিনয়ী মায়ের গল্প, এক মহান নেতার জন্ম

Pinterest Telegram WhatsApp

শুনশান রেল স্টেশন। দিনের শেষ ট্রেনটি অনেক আগেই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে গেছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার মাঝেই এক বৃদ্ধা বসে আছেন—চোখে ক্লান্তি, মুখে অসহায় ভাব। তিনি জানেন না, পরের ট্রেন আসবে আজ না কাল।

এই ছোট্ট দৃশ্য দিয়েই শুরু হয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মা–কে ঘিরে এক অনন্য অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

শুনশান রেল স্টেশনের এক নীরব রাত

রাত বাড়ছে। স্টেশনের আলো নিভু নিভু। এক কুলি হঠাৎ খেয়াল করল, এত রাতে এক বৃদ্ধা একা বসে আছেন।

সে কাছে এসে জিজ্ঞেস করল—
মাইজি, তুমি কোথায় যাবে?

বৃদ্ধা শান্ত গলায় বললেন—
দিল্লি যাব বাবা, ছেলের কাছে।

কুলি জানাল—আজ আর কোনো ট্রেন নেই।

কুলির সঙ্গে কথোপকথন ও মায়ের সরল পরিচয়

কথায় কথায় কুলি জানতে চাইল—
তোমার ছেলে কি দিল্লিতে থাকে?
হ্যাঁ বাবা।
কি কাজ করে?

বৃদ্ধার উত্তর ছিল অবাক করার মতো সহজ—
রেলে কি যেন একটা কাজ করে!

কুলির কৌতূহল বাড়ল। সে নাম জানতে চাইল।

বৃদ্ধা বললেন—
ও তো আমার লাল। সবাই ওকে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বলে ডাকে।

Nana Patekar social work: নীরব সেবায় মানুষের পাশে এক দৃঢ় নাম

একটি নামেই বদলে যায় পরিস্থিতি

এই নাম শোনামাত্রই যেন গোটা স্টেশন তোলপাড় হয়ে গেল। কারণ “লাল বাহাদুর শাস্ত্রী” মানে শুধু একজন রেলকর্মী নন—তিনি তখন ভারতীয় রেলওয়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রী।

খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টেশনে এসে দাঁড়াল বিশেষ সালুন কার। চারদিকে তৎপরতা।

কিন্তু বৃদ্ধার মুখে তখনও বিস্ময়—
“আমার ছেলের এত ক্ষমতা!”

ভারতীয় রেলের আয়োজন, অথচ ছেলের অজানা থাকা

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই পুরো আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নিজে।

তিনি নির্দেশ দেননি। তিনি চাননি বিশেষ সম্মান।
সবটা করেছে ভারতীয় রেল—একজন মন্ত্রীর মাকে সম্মান জানাতে।

এখানেই গল্পটা আলাদা হয়ে যায়।

এমন মা বলেই এমন সন্তান

একজন মা, যিনি জানেনই না তাঁর ছেলে কত বড় পদে আছেন।
একজন সন্তান, যিনি নিজের পরিচয় বা ক্ষমতা সামনে আনেননি।

এই বিনয় কি এমনি এমনি আসে?
না। এটা গড়ে ওঠে ঘরের ভেতর থেকেই।

এই মা তাঁর ছেলেকে শিখিয়েছিলেন—
ক্ষমতা নয়, মানুষ হওয়াটাই বড়।

ক্ষমতা নয়, চরিত্রই প্রকৃত নেতৃত্ব

আজকের দিনে নেতা মানেই গাড়ি, নিরাপত্তা, প্রোটোকল।
কিন্তু এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
কিছু মানুষ পদকে ব্যবহার করেন না, পদকে অলংকৃত করেন

লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সেই বিরল শ্রেণির নেতা, যাঁরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে আসেননি—দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছিলেন।

“ছোটি সি কাম মা” — ইতিহাসে অমর এক উত্তর

ছেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বৃদ্ধা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন—
“বেটা, তু রেল মে কেয়া কাম করতে হো? লোকজন জিজ্ঞেস করলে আমি তো কিছু বলতে পারিনি।”

ছেলের উত্তর ছিল ছোট, কিন্তু গভীর—
“ছোটি সি কাম মা।”

এই একটি লাইনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিনয়, শিক্ষা আর আদর্শ।

উপসংহার

এই গল্প শুধু অতীতের স্মৃতি নয়।
এটা আজকের সমাজের জন্য এক আয়না।

আমরা যদি আবার এমন মা গড়ে তুলতে পারি,
তবেই হয়তো আবার এমন নেতা জন্ম নেবে।

কারণ সত্যিটা একটাই—
এমন মা না হলে, অমন ছেলে হয় না।

Write A Comment