145dba
বাংলা লেখালেখি

জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড: এক বদভ্যাস কীভাবে পুরো দেশকে চিনিয়ে দিল

Pinterest Telegram WhatsApp

জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত বদভ্যাসের গল্প নয়, বরং এটি দেখিয়ে দেয় উন্নত দেশে শৃঙ্খলা, প্রযুক্তি ও দায়িত্ববোধ কীভাবে একসাথে কাজ করে। একটি ফাইভ স্টার হোটেলের সুইমিংপুলে করা সামান্য অসভ্য আচরণ যে একজন পর্যটকের পুরো ভ্রমণই নয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও শেষ করে দিতে পারে—এই ঘটনাই তার প্রমাণ। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলে, আমরা ব্যক্তি হিসেবে কতটা সচেতন, আর রাষ্ট্র হিসেবে কতটা দায়িত্বশীল?

জাপানের ফাইভ স্টার হোটেলে একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা

এক ভারতীয় পর্যটক জাপানে ঘুরতে গিয়ে একটি ফাইভ স্টার হোটেলে ওঠেন। হোটেলের সুইমিংপুলে তখন আর কোনো অতিথি ছিল না। একা পুলে নামার পরেই তার মাথায় আসে এক চরম বোকামিপূর্ণ চিন্তা। মজার ছলে সুইমিংপুলে মূত্র বিসর্জন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

পুলের জলের একটি অংশ হঠাৎ গোলাপি রঙ ধারণ করে এবং অ্যালার্ম বেজে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই হোটেল স্টাফরা ছুটে আসে। এখান থেকেই জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড আর নিছক কাণ্ড থাকে না, এটি রূপ নেয় শাস্তিযোগ্য অপরাধে।

শৃঙ্খলার দেশে অসভ্য আচরণের তাৎক্ষণিক ফল

জাপানে নজরদারি ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে

জাপানের হোটেল ব্যবস্থায় প্রতিটি জায়গায় উন্নত সেন্সর ও মনিটরিং সিস্টেম থাকে। সুইমিংপুলের পানিতে রাসায়নিক পরিবর্তন ধরা পড়তেই অ্যালার্ম সক্রিয় হয়ে যায়। এর মানে হলো—এখানে “লুকিয়ে করা কাণ্ড” বলে কিছু নেই।

এই ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পুরো পুলের পানি ফেলে দিয়ে নতুন করে পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষতির দায় সরাসরি পর্যটকের উপর বর্তায়। জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড এখানে মজার গল্প না হয়ে দাঁড়ায় বড় ধরনের দায়িত্বহীনতার উদাহরণ।

পাসপোর্টই যখন হয়ে ওঠে অপরাধের পরিচয়

ঘটনার মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই ওই পর্যটককে রিসেপশনে ডেকে আনা হয়। তার হাতে পাসপোর্ট ধরিয়ে দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়—এই হোটেলে তার থাকা আর সম্ভব নয়। এখানেই শেষ নয়।

হোটেল নেটওয়ার্ক ও কালো তালিকা ব্যবস্থা

পরবর্তীতে সে একের পর এক হোটেলে থাকার চেষ্টা করে—ফাইভ স্টার, ফোর স্টার, এমনকি থ্রি স্টার হোটেলেও। প্রতিবারই রিসেপশনিস্ট তার পাসপোর্ট দেখে চিনে ফেলে। প্রতিক্রিয়া একই—ভদ্র কিন্তু দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান।

এখানে বোঝা যায়, জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড শুধু একটি হোটেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হোটেলগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে তার পরিচয় ছড়িয়ে পড়েছে পুরো সিস্টেমে।

ধর্মহীন সমাজ ও অপরাধ প্রবণতা : সুইডেন–ডেনমার্ক কী প্রমাণ করে?

এমব্যাসি ও বিমানবন্দরের চূড়ান্ত অপমান

সারাদিন ঘুরে কোথাও আশ্রয় না পেয়ে শেষমেশ পর্যটক নিজের দেশের এমব্যাসিতে যায়। সেখান থেকে তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—যেসব হোটেলে সুইমিংপুল আছে, সেখানে সে ভবিষ্যতেও থাকতে পারবে না। তার পাসপোর্টে এই ঘটনার রেকর্ড থেকে গেছে।

জাপান ত্যাগ করার সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসার পাসপোর্টে সিল মারতে মারতে যে মন্তব্যটি করে, সেটাই এই ঘটনার সারকথা—শিক্ষা না নিলে ভ্রমণের অধিকার মূল্যহীন।

এই পর্যায়ে এসে জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড সম্পূর্ণভাবে এক সতর্কবার্তায় পরিণত হয়।

ব্যক্তিগত কাণ্ড কীভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে

একজন পর্যটক যখন বিদেশে যায়, সে একা নিজের পরিচয় বহন করে না। তার সঙ্গে থাকে তার দেশের নাম, সংস্কৃতি ও নাগরিক চরিত্র। একটি ছোট অসভ্য আচরণ পুরো জাতিকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড আসলে একটি দেশের নাগরিক শিষ্টাচার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। বিদেশে আইন মানা ঐচ্ছিক নয়—এটা বাধ্যতামূলক।

উন্নত দেশের শৃঙ্খলা বনাম আমাদের বাস্তবতা

একদিকে জাপানে একটি সুইমিংপুল নোংরা হওয়ায় পুরো সিস্টেম নড়ে ওঠে। অন্যদিকে আমাদের দেশে রাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লোপাট হয়ে গেলেও দোষী চিহ্নিত করা যায় না। এই তুলনা অস্বস্তিকর হলেও বাস্তব।

এই জায়গায় এসে জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড শুধু ভ্রমণ কাহিনি থাকে না, এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পার্থক্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

এই ঘটনা আমাদের কী শিক্ষা দেয়

বিদেশ ভ্রমণে আচরণ কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিদেশে গিয়ে আইন ভাঙলে “আমি ট্যুরিস্ট” যুক্তি কোনো কাজ করে না। শৃঙ্খলাপূর্ণ সমাজে ব্যক্তিগত দায়িত্বই শেষ কথা। একটু মজা করার মানসিকতা যে কত বড় অপমান ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে লেখা সেই লাইন—“পুরো জাপান জেনে গিয়েছিলো”—আসলে আত্মস্বীকারোক্তি। জাপানে ভারতীয় পর্যটকের কাণ্ড আমাদের শেখায়, সভ্যতা দেখানোর বিষয় নয়, চর্চার বিষয়।

Write A Comment