145dba
Tag

বাঙালি সমাজ

Browsing

নীরদ সি চৌধরী তাঁর ”আত্মঘাতী বাঙ্গালী” পুস্তকে ১০০ বছরের বাঙালির ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে বাঙ্গালী কোনোদিন সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বা নিতে পারেনি। সবসময় বড়াই করে আমরা খুব বুদ্ধিমান ও সংস্কৃতিবান!

কিন্তু সারা ভারত যা করে বাঙালি তার উল্টোটা করে। তার মানে হয়, বাঙালি বুদ্ধিমান আর সারা ভারত বুদ্ধিহীন। আমি প্রায়ই দ্বিধায় পরে যাই এই ভেবে, বুদ্ধিমান বাঙালি বাবুরা ছেলে-মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরে চেয়ে থাকেন ব্যাঙ্গালোর, পুনে, চেন্নাই, দিল্লী কিংবা হায়দ্রাবাদের দিকে!

চিকিৎসা করতে গেলে প্রাধান্য দেন ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই, ভেলর অথবা হায়দ্রাবাদকে।

২০২৩ এর লেবার ইনডেক্স অনুযায়ী, সারাভারতে আজ ৭২ লক্ষ বাঙালি শ্রমিক পেটের দায়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করেন।

পশ্চিমবঙ্গে কত মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কিংবা ইউনিভার্সিটি আছে, আর কর্নাটকে কিংবা চেন্নাইতে কত আছে এর তথ্য Google সার্চ করে জেনে নিন।

লজ্জা হয় না আমরা এত পিছিয়ে পড়লাম কেনো?
১৯৭৭ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গ কোনোদিন কেন্দ্র রাজ্যে এক সরকার পায়নি। তার ফল তারা ভোগ করছে, আগামীদিনেও করবে।

বদলে যাওয়া পরিবার ব্যবস্থা: সময়, সন্তান ও একাকী হয়ে পড়া ঘর

১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বঙ্গদেশে প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলমানরা ঢেলে ভোট দিল মুসলিম লীগকে আর বুদ্ধিমান হিন্দু বাঙ্গালী ভোট দিল ধর্ম নিরপেক্ষ কংগ্রেসকে। হিন্দুমহসভা ভোটে হেরে গেলো। কি আনন্দ!!!
বছর ঘুরতে না ঘুরতে পুঁটুলি হাতে বউ বাচ্ছা নিয়ে কোটি কোটি বাঙালি হিন্দু ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে এলো এ বঙ্গে। তাও লজ্জা নেই। আবার গর্ব করে বলে আমাগো এত বিঘা জমি ছিল এত বিঘা পুকুর ছিল সব মনে আছে।
মনে নেই কেবল কারা লাথি মেরে তাড়িয়ে ছিল।

প্রশান্ত সুর, প্রমোদ দাশগুপ্ত তাড়া খেয়ে এখানে এসে কমিউনিস্ট পার্টি করেছেন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাস ওপার বাংলায় মুসলিম নিপীড়নের শিকার হয়ে নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্পে রিফিউজি ক্যাম্পে এসে উঠেছিলেন। তারপরেও তাদের বোধদয় হয়নি।

কোনো চিন্তা নেই হিন্দু বাঙালি।
দুই টাকা কিলো চাল খাও,
ভোটের আগে বিনা পয়সায় ডিম ভাত খাও,
দুই হাজার টাকায় শিক্ষকের চাকরি করো,
মাস গেলে লক্ষী – সরস্বতী – গণেশ – কার্তিক ভাণ্ডারের ১০০০ টাকা নাও,
মেয়ের বিয়ের জন্য বিয়েশ্রীর ২৫ হাজার টাকা নাও,
১০ বছর সরকারি চাকরির নিয়োগ না হলেও কোনো প্রতিবাদ কোরনা।

আজকাল নাকি পশ্চিমবঙ্গে খুব উন্নয়ন চলছে, উন্নয়নের নাকি যজ্ঞ চলছে, তা অবশ্য চলছে নাহলে কেন নেতা মন্ত্রীর ঘর থেকে এতো এতো টাকা বের হয়!!!
আর এরপরেও নির্লজ্জ ভিখারির মতন আমরা ভোট দিয়ে যাই শুধুমাত্র ভিক্ষা পাবার লোভে!!!
হায়রে বাঙালি, তোরা আজ সত্যিই কাঙালি!

আনন্দ বাজার, বর্তমান কাগজ ও এই সময় বিজ্ঞাপনের লোভে বিক্রি হয়ে গেলেও কোনো প্রতিবাদ করা যাবে না। বলতে হবে আমরা খুব খুব ভালো আছি।

পশ্চিমবঙ্গে দিন দিন থার্ডক্লাস লোকের সংখ্যা বাড়ছে। এইসব থার্ডক্লাস লোক গুলো রাজনৈতিক দলের সাপ্লাই লাইন। তাই ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গ তলানিতে ঢুকে যাচ্ছে। সুদূর আমেরিকায় বসে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি চলছে শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য, কোনো উন্নয়নের জন্য নয়। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই l ৩৪ বছর যেমন চলেছে, বর্তমানে ঠিক একি ধারায় চলছে আর থার্ডক্লাস লোক গুলো সমাজের লাইম লাইটে চলে এসেছে। মেধাহীনজ্ঞানহীন, নীতি – নৈতিকতাহীন সমাজে পিছিয়ে পড়া ধান্ধাবাজ বখাটেদের হাতে রাজ্যের ক্ষমতা।

বাঙালি জাতিটি আর কতটা নিচে নামতে পারে, এটা এখনও দেখার বাকি আছে …
দায়িত্ব নিয়ে বলছি, বর্তমানে কলকাতা এখন একটা মৃত শহর, যেখানে না আছে পড়াশোনা করার মতো উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না আছে একটু ভদ্র ভাবে বেঁচে থাকার জন্য কর্মসংস্থান, তাই ভোটের দিন ওই বেকার ছেলেমেয়েরাশাসকের হয়ে মারপিট করে, বুথ জ্যাম করে, ছাপ্পা ভোট দেয়!

দিল্লী, মুম্বাই, পুনে, আহমেদাবাদ, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, লখনৌ, ইন্দোর, ভুবনেশ্বর, অমৃতসর, চন্ডিগড়, শ্রীনগর, গুয়াহাটি, পাটনা, রাঁচি, বারাণসী, ভুপাল, কোচিন, দেরাদুন – ভারতবর্ষের এমন একটা শহরকে আপনি দেখাতে পারবেন, যেই শহরে ভোটের দিন গন্ডগোল হয়! কলকাতায় হয়, কারন কলকাতায় এখন থার্ডক্লাস মানুষেরা থাকে, অন্য রাজ্যের ছেলেমেয়েরা নেতামন্ত্রীদের রাস্তায় দেখলেও চিনবেনা আর কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে নেতা মন্ত্রী দেখলেই অসভ্য বাঙালি নিজস্বী নিতে ব্যাস্ত!!!

কলকাতা বর্তমানে একটা মৃত শহরে পরিণত হয়েছে, আর এই মৃত শহরের বাসিন্দারা একবার নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে ভয় পায়না, তারা ভাবেনা, তাদের সন্তান বড় হলে তারা কি এই নির্লজ্জ শহরে দু মুঠো খাবার জোগাড় করতে পারবে না? নাকি দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদের মত শহরে গিয়ে অন্য জাতের দয়া ভিক্ষা করে খেতে হবে!

অবশ্য বাংলা এখন ভিক্ষাতেই খুশি!

তাই তো বাঙালি আজ কাঙালি!