145dba
Tag

হিন্দু মুসলিম ঐক্য

Browsing

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু কয়েকজন নেতার নাম নয়, এটি লাখো মানুষের ত্যাগের ইতিহাস। সেই ইতিহাসে খান আব্দুল গফফার খান এক উজ্জ্বল নাম। মুসলিম হয়েও তিনি ছিলেন একান্তভাবে ভারতপ্রাণ। অহিংসা, সাহস আর মানবিকতার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন আজীবন।


জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ও খান আব্দুল গফফার খানের সাহসী বক্তব্য

১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ভারতের ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায়। নিরীহ মানুষদের উপর গুলি চালিয়ে ব্রিটিশ সরকার নির্মমতা দেখিয়েছিল।

জেনারেল ডায়ারের নির্দেশ ও নিরীহ মানুষের উপর গুলি

জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে সভায় জড়ো হওয়া হাজারো মানুষের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। নারী, পুরুষ, শিশু—কেউই রেহাই পায়নি।

পোস্টমর্টেম রিপোর্টে পিঠে গুলির চিহ্ন না থাকার সত্য

খান আব্দুল গফফার খান তখন জেনারেল ডায়ারকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন—
“তুমি যদি একজন মুসলিম শহীদের পিঠে গুলির চিহ্ন দেখাতে পারো, আমি স্বাধীনতার লড়াই ছেড়ে দেব।”

বুকে গুলি লাগা শহীদদের সত্য ইতিহাস

টানা দু’দিনে ৭৬টি লাশের পোস্টমর্টেম হয়। একটিও লাশের পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সবাই শহীদ হয়েছেন বুকে গুলি নিয়ে। এতে প্রমাণ হয়—তাঁরা পিছু হটেননি, সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছিলেন।


হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা

খান আব্দুল গফফার খান ছিলেন হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জীবন্ত প্রতীক।

মুসলিম হয়েও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রতীক

তিনি বিশ্বাস করতেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশ এক। তাই তিনি হিন্দু-মুসলিম সবাইকে নিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিলেন।

সীমান্ত গান্ধী হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার কারণ

অহিংসা, শৃঙ্খলা ও সত্যের পথে চলার জন্য মানুষ তাঁকে “সীমান্ত গান্ধী” নামে ডাকত। তিনি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন।


ইন্দিরা গান্ধী ও খান আব্দুল গফফার খানের আবেগঘন সাক্ষাৎ

স্বাধীনতার পরে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে ভারতে আমন্ত্রণ জানান।

অসুস্থ অবস্থায় ভারতে আমন্ত্রণ

ইন্দিরা গান্ধী নিজে উদ্যোগ নিয়ে তাঁকে দিল্লিতে আনেন চিকিৎসার জন্য।

বিমানবন্দরে আবেগঘন মুহূর্ত

প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁর ব্যাগ নিজ হাতে তুলতে গেলে খান সাহেব মজা করে বলেন,
“সব তো নিয়ে নিলে মা, এটাও নেবে?”

ইন্দিরা গান্ধীর চোখে জল আসার ঘটনা

এই কথা শুনে ইন্দিরা গান্ধীর চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে বোঝা যায়—দেশভাগ হলেও ভালোবাসা ভাগ হয়নি।


ভারত ভাগ ও খাইবারে থেকে যাওয়া এক ভারতপ্রাণ মানুষের যন্ত্রণা

দেশভাগের পর তিনি ভারতের বাইরে, খাইবার অঞ্চলে থেকে যান।

এক রাতে পাকিস্তানি হয়ে যাওয়া এক ভারতপ্রাণ মানুষ

যিনি মনে-প্রাণে ভারতীয়, এক রাতে ভাগ্যের নিষ্ঠুরতায় তিনি পাকিস্তানি হয়ে যান।

মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা

দেশের জন্য জীবন দেওয়া মানুষটির জন্য এ ছিল সবচেয়ে বড় কষ্ট।


খান আব্দুল গফফার খানের ত্যাগ ও আজকের প্রজন্মের জন্য বার্তা

৩৫ বছর জেল জীবন ও আত্মত্যাগ

তিনি প্রায় ৩৫ বছর জেল খেটেছেন। কোনো লোভ, কোনো ভয় তাঁকে থামাতে পারেনি।

ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম

কারাগারে থেকেও তাঁর মনোবল ভাঙেনি। তিনি আজীবন সত্য ও অহিংসার পথে ছিলেন।

আজকের প্রজন্মের জন্য শিক্ষা

আজ যারা ইতিহাস জানে না, তাদের জানা দরকার—
স্বাধীনতা এসেছে রক্ত, ত্যাগ আর হিন্দু-মুসলিম একতার মাধ্যমে।