Bengali Tech News AI Apps Smartphone Updates ব ল ড জ ট ল(1)
Author

বাংলা ডিজিটাল

Browsing

মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, স্পার্টাকাসকে
প্রশ্ন করেছিল বৃদ্ধা।

আমরা তো লড়েছি
দুর্বলের হয়ে,
স্বাধীনতার জন্যে,
বঞ্চনার অবসানের জন্য,
তাও এই পরাজয়! কেন স্পার্টাকাস?

স্পার্টাকাসের গা’থেকে
চুঁইয়ে পড়া রক্তে
লাল হয়ে যাচ্ছিল
বৃদ্ধার সাদা চুল।
গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল

স্পার্টাকাস বলতে চাইছিলো
কিন্তু বলতে পারলোনা-
‘সত্য জিতবে বলে তো আমরা সত্যের পক্ষে দাঁড়াই না!
বার বার সত্য হারে-
তত্ত্বের খোলস থেকে
যখনই রাস্তায় পা রাখে
গৌরবময় বীরগাথায়
স্থান পাওয়ার আগে
বহু বার সত্যের হত্যা হয়।’

“সত্যকে তো একাকী
মরতে দেওয়া চলেনা!”
তার নিশ্চিত পরাজয়েও পাশে অবিচল দাঁড়াতে হয়।

কেবল তাহলেই
কবিতায় সত্য বাঁচবে,
বিজয় সংগীতে বেজে উঠবে
সত্যের সুর।
সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হয়
আগামীর জন্য।
সত্যের মৃত দেহের থেকে
নবীন সত্যের চারাগাছ জন্ম নেবে।
বেড়ে ওঠা সেই গাছের ছায়ায়
বেড়ে উঠবে আগামীর সন্তানেরা
ওরাই একদিন সেই গাছের
অরণ্য গড়ে তুলবে।

আর অরণ্যকে কি সহজে পরাজিত করা যায়?

স্পার্টাকাস পরাজিত হয়েছিল।
শাসকের থুতু বর্ষিত হচ্ছিল।

কিন্ত বধ্যভূমিতেও
সত্যের পক্ষে ঋজু ছিলেন স্পার্টাকাস।
স্পার্টাকাস নিহত হয়েছিলেন।

উত্তর না শুনেও
বৃদ্ধা সেদিন ঘরে ফিরে গেছিলো
সমস্ত উত্তর নিয়ে ।

কবি: অমিত ঘোষ,চন্দননগর

সন্তানই যে দেখবে আমায়,
সেই ধারণা ছাড়তে হবে /
তোমরা যারা চমকে তাকাও,
প্রশ্ন করো ‘আর কে তবে’//

তাদের বলি,সে এক সময়,
বাড়ি হতো সাত পুরুষের /
মানুষ ছিলো নোঙর বাঁধা,
বাসায় ফিরে আসত সে ফের //

কাজের শেষে,বৃদ্ধ হলে
জায়গা নিতো প্রজন্ম তার /
পাল্টে গেছে সে সব এখন,
যুগটা এখন অস্থিরতার //

মালদা যদি দাদুর বাড়ি,
বাবা থাকেন বেঙ্গালুরু /
আরো সুদূর রাজ্যে কোনো
ছেলের চাকরি জীবন শুরু //

কিংবা মেয়ে বিদেশ গেছে
উচ্চতর জ্ঞানের খোঁজে /
যেখানে যাক,প্রজন্মের আজ
হয়না ফেরা খুব সহজে //

চারিদিকে তাকিয়ে দেখো,
গজায় হাজার বৃদ্ধ আবাস /
সাপ্লাই আর ডিমাণ্ড বুঝে,
ইকনমির সূত্র তা খাস //

সব সন্তান পাষাণ-হৃদয়,
সেই ধারণার ভিত কিছু নেই /
স্মৃতির ভেতর দিয়ে দেখি,
ভুল হয়ে যায় হয়তো তাতেই //

সে এক সময় ছুটি হলে,
ফিরতো সবাই ‘দেশের বাড়ি’/
মোড়ের মাথার গাছটা দেখেই
বুকের ভেতর হাঁকপাতাড়ি //

সে এক সময়,মেজো সেজো
ন’রাঙাদের সম্বোধনে /
ঘর বলে এক চিরস্থায়ী
আকাশ ছিলো সবার মনে //

এখন সময় বদলে গেছে,
সাকিন মাপা স্কোয়ার ফুটে /
দিদুন কেমন আছো বলে
আসে না আর নাতনি ছুটে //

কারণ তাদের বাবা মায়ের
বদলে গেছে ছুটির মানে /
‘ট্যুর’ ‘ট্রিপ’ আর ‘ট্র্যাভেলস’ ওলা
তাদের সেসব খবর জানে //

ভিডিও চ্যাটই এখন সবার
কুশল নেওয়ার নতুন বাহন /
ওষুধ খাবার পৌঁছে দেওয়ার
অ্যাপ হয়েছেন বিপত্তারণ //

এমন ভাবা খুব অকারণ
প্রজন্মে নেই ভালোবাসা /
মোবাইলেতে এখন কঠিন
কাজের থেকে বাইরে আসা //

এমন অনেক মানুষ পাবে
নিত্য যারা খোঁজও রাখে /
দূরের থেকে চেষ্টা করে,
বাপ মা যাতে ভালো থাকে //

কিন্তু তাদের হাত পা বাঁধা,
কাজের ঘানির পেষাই এত /
করবে কি আর,পেট চালাতে,
যুগের দাবী এখন সে তো //

তাই বলি কি,সবাই এখন
ঘরকে বরং ‘কুলায়’ ভাবি /
উড়ুক ছানা ডানার জোরে,
সুখের কাছে সেটাই দাবী //

সবাই যদি মনের মতন
পড়শি এবং বন্ধু বাছি /
পাকাচুলেও থাকবে যারা
ডাকার মতো কাছাকাছি //

যাদের সাথে রোজের যাপন
‘কেমন আছো’র বাইরে গিয়ে /
জীবন যদি সবাই ঘিরি
এমন কিছু মানুষ দিয়ে //

সন্তানেরে বলবে যারা
‘আসতে হবে না রে তোকে’/
তবেই জেনো কাউকে তবু
পাশে পাবো শেষ দশকে //

চলো সবাই মানিয়ে নিই,
দুনিয়া দেখি নতুন চোখে /
“আমরা কিন্তু দায় নই”,
বাবা মা’দের বার্তা হোক এ //

ছোট্টো ক’টা পাখির ছানা
শেখেনি তারা মেলতে ডানা

মা গেছে উড়ে, দূরে কোথাও
আনতে খাবার, শস্যদানা।

খুঁজতে খুঁজতে বেলা কাবার
পেয়েছে মা, খানিক খাবার

পোকা-মাকড়‌ও পেয়েছে কিছু
আর দেরি নয় ফিরবে এবার।

অভুক্ত ছা’রা আছে বাসায়
লালচে আকাশ, তাই খর-পায়

শেষ পোকাটা, ধরতে গিয়ে
ফাঁদের ফাঁসে, জড়িয়ে যায়।

মায়ের তো ফেরা, হলো না ঘরে
পরে, বাচ্চাগুলোও শুকিয়ে মরে।

কবিতা লিখেছেন – সৌরেন্দুশেখর বিশ্বাস

গাহি সাম্যের গান
তারুণ্য ছন্দে, ক্ষণে ক্ষণে দুলিবে প্রাণ।

এসো হে সবুজ,
গহণ আরণ্যক;
আলো -ছায়াময় গোধূলিতে,
শাণিত হবে শত প্রাণের হিল্লোল,
তর্জন-গর্জনের ছন্দে বহিবে
বির্মূত কোন তিমির রাতে।

স্বচ্ছ ফেনিল তীরের বেলাভূমে,
দাঁড়িয়ে ঠাই!
করিব সত্যের অবগাহন।
রক্তিম আভায় ভরিবে,
জোৎস্না রাত।
সুন্দর এক সকালের প্রতীক্ষায়!

কবিতা লিখেছেন – -Shabiha Suchi

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা কেন আজ সবচেয়ে জরুরি

গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক রাতে ঘুম ভাঙল মুরগির বাচ্চার কিচিরমিচিরে।
জানতে পারলাম, মা মুরগিকে নিচে রেখে বাচ্চাগুলো আলাদা করে দোতলার বারান্দায় রাখা হয়েছে। কারণ একটাই—বাচ্চা যদি বেশি দিন মায়ের সঙ্গে থাকে, তবে দেরিতে ডিম দেয়।

এই ছোট ঘটনা থেকেই বড় প্রশ্নটা মাথায় এলো—
আমরা কি আমাদের ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার বদলে তাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তায় আটকে রাখছি?

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা বনাম ডানার নিচে রেখে দেওয়া

প্রকৃতির একটা নিয়ম আছে।
যে বেশি আশ্রয়ে থাকে, সে দায়িত্ব নিতে শেখে না।

আজকের সমাজে আমরা অনেক সময় ছেলেদের ভালোবাসার নামে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখি।
ফলাফল?
বয়স ত্রিশ ছুঁলেও মানসিকভাবে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে না।

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা মানে শুধু পড়াশোনা করানো নয়—
সময়মতো দায়িত্ব নিতে শেখানো।

ষোলো বছরেই প্রাপ্তবয়স্ক—একটি বাস্তব উদাহরণ

আমার বন্ধু শরিফ।
সে দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি ব্রিটিশ।

যেদিন তার বয়স ষোলো পেরিয়ে সতেরোতে পড়ল, সেদিন তার বাবা বলেছিলেন—
“আজ থেকে তুমি আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।”

পড়াশোনার খরচ, বাড়ি ভাড়া, খাবার—সব নিজেই চালাতে হয়েছে।
কোনো ছাড় ছিল না।

এই কঠোর সিদ্ধান্ত শরিফকে খুব কষ্ট দিয়েছিল।
কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় তার পরিপক্বতা।

দায়িত্ব আগে এলে পরিপক্বতা দ্রুত আসে

এই অভিজ্ঞতা শরিফকে অল্প বয়সেই শক্ত করে গড়ে তুলেছিল।
উনিশ বছর বয়সে বিয়ে।
চল্লিশের মাঝামাঝি বয়সেই সন্তানেরা স্বনির্ভর।

আজ সে সমাজে দায়িত্ববান একজন মানুষ।
অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা যে জীবনের মান বদলে দেয়—শরিফ তার জীবন্ত প্রমাণ।

আমাদের সমাজে দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রজন্ম কেন তৈরি হচ্ছে

আমাদের সমাজে এখন অসংখ্য ছেলে দেখা যায়—

  • বয়স ত্রিশ
  • লক্ষ্য নেই
  • স্থিরতা নেই
  • দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা নেই

বাবা–মা বলেন,
“আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের ছেলে যেন কষ্ট না পায়।”

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—
এই অতিরিক্ত সুরক্ষা ছেলেদের দুর্বল করে তোলে।

শিক্ষা দিলেই কি ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা যায়?

অনেক অভিভাবক মনে করেন,
ভালো শিক্ষা মানেই সব সমস্যার সমাধান।

ফলে ছেলেমেয়েদের বাস্তব জীবন থেকে দূরে রেখে তৈরি করা হয়—
“শিক্ষিত কিন্তু অকার্যকর মানুষ।”

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন—

  • বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি করা
  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া
  • ভুল করার স্বাধীনতা

দেরিতে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষতি—একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি

আমি নিজে ড্রাইভিং শিখেছি তেত্রিশ বছর বয়সে।
এক বন্ধু বলেছিল—
“তুমি ভালো ড্রাইভার হবে না, তুমি হবে সাবধানে চলা আংকেল ড্রাইভার।”

কথাটা সত্যি।
দেরিতে শেখা মানে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস—দুটোই কমে যাওয়া।

ঠিক তেমনি, দেরিতে দায়িত্ব নেওয়া ছেলেদের সক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।

কঠোরতা একদিন শ্রদ্ধায় বদলায়

শরিফ তার বাবাকে একসময় ঘৃণা করত।
কিন্তু বিয়ের দুই বছর পর ব্যবসার জন্য যখন অর্থ দরকার হলো,
বাবা তখন তার হাতে জমিয়ে রাখা টাকা তুলে দিয়েছিলেন।

বলেছিলেন—
“এই টাকা তোমারই। তোমার কঠিন দিনের জন্য রেখে দিয়েছিলাম।”

সেই দিন থেকেই ঘৃণা বদলে যায় শ্রদ্ধায়।

শেষ কথা—প্রকৃতির নিয়ম কেউ ভাঙতে পারে না

মুরগির বাচ্চা যেমন ডানার নিচে থাকলে ডিম দেয় না,
তেমনি ছেলে যতদিন অতিরিক্ত আশ্রয়ে থাকবে, দায়িত্বশীল হবে না।

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা কোনো নিষ্ঠুরতা নয়।
এটা ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গল্প অনেক সময় এমন সত্য তুলে ধরে, যা বড় বড় তর্ক-বিতর্কেও উঠে আসে না। একটি সাধারণ কর্পোরেট ইন্টারভিউয়ের মধ্য দিয়ে কীভাবে আজকের সমাজ, রাজনীতি, মিডিয়া এবং ডিজিটাল আসক্তির পুরো ছবি ফুটে ওঠে—এই গল্প ঠিক সেটাই দেখায়।

একটি কর্পোরেট ইন্টারভিউ থেকে শুরু

ছ’টা নাগাদ লাস্ট ক্যান্ডিডেট হিসেবে ঘরে ঢুকল একটি মেয়ে। নাম শ্রীলেখা। বয়স আটাশ। ইংলিশে এমএ। হেড অফিসের কর্পোরেট কমিউনিকেশন পোস্টের জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছে। পোশাক-আশাক একেবারেই সাধারণ।

অ্যাপিয়ারেন্সের দিক দিয়ে বাকিদের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও, কথাবার্তায় সে ভয়ংকর রকম শার্প। কয়েকটা প্রশ্ন যেভাবে উত্তর দিল, তাতেই বোঝা গেল—সলিড ক্যান্ডিডেট। অযথা কথা নেই। যা বলছে, মেপে বলছে। টু দ্য পয়েন্ট। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

বোর্ডের বাকি সদস্যরা প্রশ্ন করছে। আমি চুপচাপ বসে শুধু ওর উত্তর শুনছি। মনে মনে ঠিক করে ফেলেছি—একে আলাদা করে আর কিছু জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। সারাদিনের মধ্যে এই মেয়েটাই বেস্ট ক্যান্ডিডেট।

এক অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রী হলে কী করবেন?

সবাই যখন প্রশ্ন শেষ করল, তখন আমার পালা। হঠাৎ মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। ইংরেজি বাদ দিয়ে পরিষ্কার বাংলায় জিজ্ঞেস করলাম—

— ধরুন আপনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শিল্প নিয়ে আপনার কী বক্তব্য?

হঠাৎ এমন প্রশ্নে শ্রীলেখা একটু চমকে গেল। তারপর নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে ধীরস্থির গলায় বলা শুরু করল। জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, আন্দোলন, অপজিশনের সুযোগ নেওয়ার কথা উঠে এলো একে একে।

তার মতে, এই রাজ্যে শিল্প বিষয়টা অনেকটা মগডালে বসা ব্রহ্মদৈত্যের মতো—আছে কি নেই বোঝা দায়। তাই অযথা বিতর্কে না গিয়ে “যা চলছে তাই চলুক” নীতি। বছরে একটা করে শিল্প সম্মেলন, চেম্বার অফ কমার্সের সঙ্গে ঘটা করে মিটিং—ব্যস, বাকিটা উড়ো খই।

স্কুলের ইভেন্ট কালচার কি শিশুদের সংবেদনশীল মনে আঘাত করছে?

ডিজিটাল ডেটা আর ইয়ং জেনারেশনের ফাঁদ

এরপর প্রশ্ন এল ইয়ং জেনারেশন নিয়ে।

শ্রীলেখার উত্তর শুনে ঘর খানিকটা স্তব্ধ হয়ে গেল। তার মতে, পাবলিক এখন খুব বেশি কিছু চায় না। মাস গেলে হাতে কিছু টাকা, পকেটে স্মার্টফোন, সস্তায় ডেটা, মল-টলে একটু ঘোরাঘুরি আর বছরে এক-দুবার দিঘা, পুরি বা দার্জিলিং—এই হল সুখ।

আসল চাহিদা একটাই—ডেটা। মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকতে পারলেই সব ঠিক। রিয়েল লাইফে যা করা যায়নি, সোশ্যাল মিডিয়ার কল্পনার দুনিয়ায় সেগুলো করা যাবে। ফেসবুকের হাততালিতে ফ্রাস্ট্রেশন গলে যাবে।

শ্রীলেখা অকপটে বলল—নিজের চোখের সামনে দেখেছে এমন মানুষ, যে মাসে হাজার টাকাও রোজগার করতে পারে না, সে-ই বুড়ো বাবার পেনশনে বসে ফেসবুকে “Do it now” বলে বাতলিং ঝাড়ছে। এমন লোক যত থাকবে, রাজ্য চালানো তত সহজ।

ডিজিটাল গভর্নেন্স মানে হবে—ফেসবুক পালের গোদা। সঙ্গে থাকবে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, হটস্টার। অনলাইন গেম, অনলাইন জুয়া, টিকটক ভিডিওতে আট থেকে আশি সবাই নেচে নিজেদের প্রদর্শন করবে।

ডেটার চৌবাচ্চা বানিয়ে এমন ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ইন্টারনেটের বাইরেও একটা পৃথিবী আছে—সেটাই মানুষ ভুলে যায়।

মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের নগ্ন বাস্তবতা

মিডিয়া নিয়ে প্রশ্নে শ্রীলেখার উত্তর আরও সোজাসাপ্টা।

সরকারি বিজ্ঞাপনে মিডিয়াকে এমনভাবে বেঁধে ফেলা হবে, যাতে তাদের আয়ের বড় অংশই আসে সরকারের কাছ থেকে। সরকারি পয়সাতেই যখন বেতন, তখন নিরপেক্ষতার গল্প আপনা থেকেই উধাও হয়ে যাবে।

ডেমোক্রেসির ফোর্থ পিলারের গল্প কাগজে-কলমে থাকবে। বাস্তবে সবাই সুর মিলিয়ে গান গাইবে।

ডেমোক্রেসির ফোর্থ পিলারের গল্প কাগজে-কলমে থাকবে। বাস্তবে সবাই সুর মিলিয়ে গান গাইবে।

হাসির আড়ালে যে কঠিন প্রশ্ন থেকে যায়

এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে শ্রীলেখা থামল। ঘর ভরে উঠল অট্টহাসিতে। মনে হচ্ছিল, কোনো কর্পোরেট চাকরিপ্রার্থী নয়—একজন পরিণত রাজনীতিবিদ কথা বলছে।

ইন্টারভিউ শেষ। বাড়ি ফেরার পথে মিষ্টির দোকানে ঢুকলাম। আপন মনে হাসছি। পাঁচ মিনিটে যেভাবে একটা মেয়ে আজকের সমাজের পুরো এক্স-রে করে দিল, সেটা টিভির ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেঁচামেচির থেকেও বেশি সত্যি।

এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গল্প মুখে হাসি ফোটালেও, ভিতরে ভিতরে একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন রেখে যায়—
আমরা কি সত্যিই এমন সমাজই চাই?

আজকাল বাচ্চাদের স্কুল মানেই দামী স্কুল, আর সারা বছর জুড়ে নানান ধরনের অনুষ্ঠান। এসবের খবর আমরা পাই বিভিন্ন মায়েদের গ্রুপের পোস্ট থেকে, আবার অনেক সময় পেশেন্টদের কথাতেও শুনি।
এই সব কার্যকলাপ বা activity-র উদ্দেশ্য বলা হয়—খেলার ছলে বাচ্চাদের শেখানো।

কিন্তু বাস্তবে এই স্কুলের ইভেন্ট কালচার বাবা-মায়ের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
প্রায় প্রতিটি ইভেন্টের জন্য কিছু না কিছু প্রস্তুত করতে হয়—জামাকাপড়, খাবার, সাজসজ্জা। সময় আর টাকার দুটোই দরকার।

ধরুন, স্কুলের ইভেন্ট কালচার “Yellow Day”। বাচ্চাদের হলুদ জামা পরে যেতে হবে, হলুদ রঙ চিনবে।
আবার কখনো “Mango Day”, কখনো মা দিবস, বাবা দিবস। এইসব অনুষ্ঠানে বাবা-মাকেও স্কুলে যেতে বলা হয়।

ভালো দিক অবশ্যই আছে। ছোট বাচ্চারা এতে খেলতে খেলতে কিছু শেখে।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন উপলক্ষটাই লক্ষ্য থেকে বড় হয়ে যায়।

বাচ্চাদের মন খুবই সংবেদনশীল।
একজন মা একদিন মেয়েদের গ্রুপে লিখেছিলেন—তার বাচ্চার স্কুলে “Mango Day” ছিল।
তিনি ভুলে গিয়েছিলেন আম দিয়ে টিফিন পাঠাতে।

ফলাফল?
সেদিন দিদিমণি বাচ্চাটিকে টিফিন খেতে দেননি।

এই ঘটনায় বাচ্চাটি শুধু ক্ষিদেয় কষ্ট পায়নি, অপমানিতও হয়েছে।
হয়তো তার মনে হয়েছে—মা কি তাহলে তাকে যথেষ্ট ভালোবাসেন না?

অথচ বাস্তবটা ঠিক উল্টো।
বাবা-মা ব্যস্ত বলেই তো এমন স্কুলে বাচ্চাকে পড়াতে পাঠান।

শতাব্দী দাস সম্প্রতি মা দিবস ও বাবা দিবস নিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন।
এই ধরনের অনুষ্ঠান বড় করে পালন করলে single parent পরিবারের বাচ্চাদের মনে গভীর আঘাত লাগে।

মাসি, পিসি, ভাই-বোন পাতানো যায়।
কিন্তু মা বা বাবা—তাদের জায়গা কেউ নিতে পারে না।

আর একটা সত্য কথা হলো—এই স্কুলের ইভেন্ট কালচার পুরোপুরি শিক্ষার জন্য নয়।
এর সঙ্গে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও জড়িয়ে আছে।

অনেক স্কুলেই এইসব অনুষ্ঠানের জন্য বাবা-মাকে আলাদা করে জিনিসপত্র কিনতে হয়।
সব পরিবার যে সেই খরচ বহন করতে পারে, তা নয়।

এই সব ভাবতে ভাবতেই নিজের স্কুলের কথা মনে পড়ে যায়।
সরকারি স্কুল।
তখন সরকারি স্কুল মানেই ছিল আলাদা সম্মান।

আমাদের দিদিমণিরা সব সময় একটা কথা মাথায় রাখতেন—
এই স্কুলে সব রকম আর্থিক ও সামাজিক স্তরের বাচ্চারা পড়ে।

কোনো হাতের কাজের জিনিস আনতে বললেও পরিষ্কার করে বলা হতো—
“বাবা-মা না পারলে চাপ দেবে না।”

আর দামী জিনিস স্কুলে আনা একেবারেই নিষেধ ছিল।
কারণ, একজনের দামী জিনিস আরেকজনের মনে কষ্ট দিতে পারে।

স্কুলে ঢুকলে সবাই সমান—এই শিক্ষাটাই ছিল সবচেয়ে বড়।
এই কথাগুলো একদিনে শেখানো হয়নি।
বারবার বলা হয়েছে। তাই মনে গেঁথে গেছে।

আমি দাবি করছি না যে সরকারি স্কুলে কখনো অমানবিক আচরণ হয়নি।
আমি শুধু আমার স্কুলের সেই বিশেষ শিক্ষার কথাই বলছি।

মানুষের অনুভূতিতে আঘাত না দেওয়া।
কারো দুর্বলতার সামনে নিজের বিত্ত প্রদর্শন না করা।
বাবা-মায়ের সীমাবদ্ধতা বোঝা।

আজকের স্কুলের ইভেন্ট কালচার কি এই মানবিক শিক্ষা দিচ্ছে?
নাকি শিশুদের বোঝাচ্ছে—খুশি থাকতে হলে বেশি বেশি জিনিস দরকার?

Yellow Day-তে হলুদ জামা না থাকলে লজ্জা।
Mango Day-তে আম না আনলে অপমান।
জন্মদিনে উপহার না আনলে ছোট হয়ে যাওয়া।

এর চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হলো—
শিশুকে মানবিক অনুভূতি শেখানো।

লেখক – অরুণিমা ঘোষ

জীবনের পথে আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ি। এই বাংলা ছোট গল্পটি ঠিক তেমনই এক মুহূর্তের কথা বলে, যেখানে একটি ছোট সিদ্ধান্ত একজন মানুষের পুরো জীবন বদলে দেয়।

রাহুল ছিল খুব সাধারণ একজন মানুষ। প্রতিদিন একই রুটিন, একই কাজ। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তার সামনে আসে দুটি পথ। একদিকে নিরাপদ জীবন, অন্যদিকে অজানা ভবিষ্যৎ।

সিদ্ধান্তের মুহূর্ত

সেই রাতে রাহুল ঘুমোতে পারেনি। মাথার ভেতর বারবার ঘুরছিল একটাই প্রশ্ন—সে কি নিজের স্বপ্নকে বেছে নেবে, না নিরাপত্তাকে? এই প্রশ্নটাই তাকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

পরিবর্তনের শুরু

পরদিন সকালে রাহুল এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয়, যেটা তার পরিবারও আশা করেনি। সে নিরাপদ পথ ছেড়ে নিজের স্বপ্নের দিকে পা বাড়ায়। শুরুটা কঠিন ছিল। ব্যর্থতা এসেছে, ভয় এসেছে, সন্দেহও এসেছে।

জীবনের শিক্ষা

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাহুল বুঝতে পারে—সব সিদ্ধান্ত ঠিক হয় না, কিন্তু সাহস না দেখালে কোনো সিদ্ধান্তই জীবন বদলায় না। এই বাংলা ছোট গল্প আমাদের শেখায়, সাহস কখনো বৃথা যায় না।

শেষ কথা

জীবনে হয়তো আজই তোমার সামনে এমন কোনো সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। তুমি কোন পথটা বেছে নেবে? নিরাপদটা, না স্বপ্নেরটা?

আরও অনুপ্রেরণামূলক লেখা পড়তে আমাদের বাংলা গল্প বিভাগটি দেখুন।