145dba
Author

বাংলা ডিজিটাল

Browsing

শুনশান রেল স্টেশন। দিনের শেষ ট্রেনটি অনেক আগেই প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চলে গেছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার মাঝেই এক বৃদ্ধা বসে আছেন—চোখে ক্লান্তি, মুখে অসহায় ভাব। তিনি জানেন না, পরের ট্রেন আসবে আজ না কাল।

এই ছোট্ট দৃশ্য দিয়েই শুরু হয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মা–কে ঘিরে এক অনন্য অনুপ্রেরণামূলক গল্প।

শুনশান রেল স্টেশনের এক নীরব রাত

রাত বাড়ছে। স্টেশনের আলো নিভু নিভু। এক কুলি হঠাৎ খেয়াল করল, এত রাতে এক বৃদ্ধা একা বসে আছেন।

সে কাছে এসে জিজ্ঞেস করল—
মাইজি, তুমি কোথায় যাবে?

বৃদ্ধা শান্ত গলায় বললেন—
দিল্লি যাব বাবা, ছেলের কাছে।

কুলি জানাল—আজ আর কোনো ট্রেন নেই।

কুলির সঙ্গে কথোপকথন ও মায়ের সরল পরিচয়

কথায় কথায় কুলি জানতে চাইল—
তোমার ছেলে কি দিল্লিতে থাকে?
হ্যাঁ বাবা।
কি কাজ করে?

বৃদ্ধার উত্তর ছিল অবাক করার মতো সহজ—
রেলে কি যেন একটা কাজ করে!

কুলির কৌতূহল বাড়ল। সে নাম জানতে চাইল।

বৃদ্ধা বললেন—
ও তো আমার লাল। সবাই ওকে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বলে ডাকে।

Nana Patekar social work: নীরব সেবায় মানুষের পাশে এক দৃঢ় নাম

একটি নামেই বদলে যায় পরিস্থিতি

এই নাম শোনামাত্রই যেন গোটা স্টেশন তোলপাড় হয়ে গেল। কারণ “লাল বাহাদুর শাস্ত্রী” মানে শুধু একজন রেলকর্মী নন—তিনি তখন ভারতীয় রেলওয়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রী।

খবর মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টেশনে এসে দাঁড়াল বিশেষ সালুন কার। চারদিকে তৎপরতা।

কিন্তু বৃদ্ধার মুখে তখনও বিস্ময়—
“আমার ছেলের এত ক্ষমতা!”

ভারতীয় রেলের আয়োজন, অথচ ছেলের অজানা থাকা

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই পুরো আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না লাল বাহাদুর শাস্ত্রী নিজে।

তিনি নির্দেশ দেননি। তিনি চাননি বিশেষ সম্মান।
সবটা করেছে ভারতীয় রেল—একজন মন্ত্রীর মাকে সম্মান জানাতে।

এখানেই গল্পটা আলাদা হয়ে যায়।

এমন মা বলেই এমন সন্তান

একজন মা, যিনি জানেনই না তাঁর ছেলে কত বড় পদে আছেন।
একজন সন্তান, যিনি নিজের পরিচয় বা ক্ষমতা সামনে আনেননি।

এই বিনয় কি এমনি এমনি আসে?
না। এটা গড়ে ওঠে ঘরের ভেতর থেকেই।

এই মা তাঁর ছেলেকে শিখিয়েছিলেন—
ক্ষমতা নয়, মানুষ হওয়াটাই বড়।

ক্ষমতা নয়, চরিত্রই প্রকৃত নেতৃত্ব

আজকের দিনে নেতা মানেই গাড়ি, নিরাপত্তা, প্রোটোকল।
কিন্তু এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
কিছু মানুষ পদকে ব্যবহার করেন না, পদকে অলংকৃত করেন

লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সেই বিরল শ্রেণির নেতা, যাঁরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে আসেননি—দায়িত্ব পালনের জন্য এসেছিলেন।

“ছোটি সি কাম মা” — ইতিহাসে অমর এক উত্তর

ছেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বৃদ্ধা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন—
“বেটা, তু রেল মে কেয়া কাম করতে হো? লোকজন জিজ্ঞেস করলে আমি তো কিছু বলতে পারিনি।”

ছেলের উত্তর ছিল ছোট, কিন্তু গভীর—
“ছোটি সি কাম মা।”

এই একটি লাইনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিনয়, শিক্ষা আর আদর্শ।

উপসংহার

এই গল্প শুধু অতীতের স্মৃতি নয়।
এটা আজকের সমাজের জন্য এক আয়না।

আমরা যদি আবার এমন মা গড়ে তুলতে পারি,
তবেই হয়তো আবার এমন নেতা জন্ম নেবে।

কারণ সত্যিটা একটাই—
এমন মা না হলে, অমন ছেলে হয় না।

নীরদ সি চৌধরী তাঁর ”আত্মঘাতী বাঙ্গালী” পুস্তকে ১০০ বছরের বাঙালির ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখিয়েছেন যে বাঙ্গালী কোনোদিন সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়নি বা নিতে পারেনি। সবসময় বড়াই করে আমরা খুব বুদ্ধিমান ও সংস্কৃতিবান!

কিন্তু সারা ভারত যা করে বাঙালি তার উল্টোটা করে। তার মানে হয়, বাঙালি বুদ্ধিমান আর সারা ভারত বুদ্ধিহীন। আমি প্রায়ই দ্বিধায় পরে যাই এই ভেবে, বুদ্ধিমান বাঙালি বাবুরা ছেলে-মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরে চেয়ে থাকেন ব্যাঙ্গালোর, পুনে, চেন্নাই, দিল্লী কিংবা হায়দ্রাবাদের দিকে!

চিকিৎসা করতে গেলে প্রাধান্য দেন ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই, ভেলর অথবা হায়দ্রাবাদকে।

২০২৩ এর লেবার ইনডেক্স অনুযায়ী, সারাভারতে আজ ৭২ লক্ষ বাঙালি শ্রমিক পেটের দায়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করেন।

পশ্চিমবঙ্গে কত মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কিংবা ইউনিভার্সিটি আছে, আর কর্নাটকে কিংবা চেন্নাইতে কত আছে এর তথ্য Google সার্চ করে জেনে নিন।

লজ্জা হয় না আমরা এত পিছিয়ে পড়লাম কেনো?
১৯৭৭ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গ কোনোদিন কেন্দ্র রাজ্যে এক সরকার পায়নি। তার ফল তারা ভোগ করছে, আগামীদিনেও করবে।

বদলে যাওয়া পরিবার ব্যবস্থা: সময়, সন্তান ও একাকী হয়ে পড়া ঘর

১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বঙ্গদেশে প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলমানরা ঢেলে ভোট দিল মুসলিম লীগকে আর বুদ্ধিমান হিন্দু বাঙ্গালী ভোট দিল ধর্ম নিরপেক্ষ কংগ্রেসকে। হিন্দুমহসভা ভোটে হেরে গেলো। কি আনন্দ!!!
বছর ঘুরতে না ঘুরতে পুঁটুলি হাতে বউ বাচ্ছা নিয়ে কোটি কোটি বাঙালি হিন্দু ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে এলো এ বঙ্গে। তাও লজ্জা নেই। আবার গর্ব করে বলে আমাগো এত বিঘা জমি ছিল এত বিঘা পুকুর ছিল সব মনে আছে।
মনে নেই কেবল কারা লাথি মেরে তাড়িয়ে ছিল।

প্রশান্ত সুর, প্রমোদ দাশগুপ্ত তাড়া খেয়ে এখানে এসে কমিউনিস্ট পার্টি করেছেন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক প্রয়াত অনিল বিশ্বাস ওপার বাংলায় মুসলিম নিপীড়নের শিকার হয়ে নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্পে রিফিউজি ক্যাম্পে এসে উঠেছিলেন। তারপরেও তাদের বোধদয় হয়নি।

কোনো চিন্তা নেই হিন্দু বাঙালি।
দুই টাকা কিলো চাল খাও,
ভোটের আগে বিনা পয়সায় ডিম ভাত খাও,
দুই হাজার টাকায় শিক্ষকের চাকরি করো,
মাস গেলে লক্ষী – সরস্বতী – গণেশ – কার্তিক ভাণ্ডারের ১০০০ টাকা নাও,
মেয়ের বিয়ের জন্য বিয়েশ্রীর ২৫ হাজার টাকা নাও,
১০ বছর সরকারি চাকরির নিয়োগ না হলেও কোনো প্রতিবাদ কোরনা।

আজকাল নাকি পশ্চিমবঙ্গে খুব উন্নয়ন চলছে, উন্নয়নের নাকি যজ্ঞ চলছে, তা অবশ্য চলছে নাহলে কেন নেতা মন্ত্রীর ঘর থেকে এতো এতো টাকা বের হয়!!!
আর এরপরেও নির্লজ্জ ভিখারির মতন আমরা ভোট দিয়ে যাই শুধুমাত্র ভিক্ষা পাবার লোভে!!!
হায়রে বাঙালি, তোরা আজ সত্যিই কাঙালি!

আনন্দ বাজার, বর্তমান কাগজ ও এই সময় বিজ্ঞাপনের লোভে বিক্রি হয়ে গেলেও কোনো প্রতিবাদ করা যাবে না। বলতে হবে আমরা খুব খুব ভালো আছি।

পশ্চিমবঙ্গে দিন দিন থার্ডক্লাস লোকের সংখ্যা বাড়ছে। এইসব থার্ডক্লাস লোক গুলো রাজনৈতিক দলের সাপ্লাই লাইন। তাই ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গ তলানিতে ঢুকে যাচ্ছে। সুদূর আমেরিকায় বসে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছি, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি চলছে শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য, কোনো উন্নয়নের জন্য নয়। বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই l ৩৪ বছর যেমন চলেছে, বর্তমানে ঠিক একি ধারায় চলছে আর থার্ডক্লাস লোক গুলো সমাজের লাইম লাইটে চলে এসেছে। মেধাহীনজ্ঞানহীন, নীতি – নৈতিকতাহীন সমাজে পিছিয়ে পড়া ধান্ধাবাজ বখাটেদের হাতে রাজ্যের ক্ষমতা।

বাঙালি জাতিটি আর কতটা নিচে নামতে পারে, এটা এখনও দেখার বাকি আছে …
দায়িত্ব নিয়ে বলছি, বর্তমানে কলকাতা এখন একটা মৃত শহর, যেখানে না আছে পড়াশোনা করার মতো উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না আছে একটু ভদ্র ভাবে বেঁচে থাকার জন্য কর্মসংস্থান, তাই ভোটের দিন ওই বেকার ছেলেমেয়েরাশাসকের হয়ে মারপিট করে, বুথ জ্যাম করে, ছাপ্পা ভোট দেয়!

দিল্লী, মুম্বাই, পুনে, আহমেদাবাদ, হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, লখনৌ, ইন্দোর, ভুবনেশ্বর, অমৃতসর, চন্ডিগড়, শ্রীনগর, গুয়াহাটি, পাটনা, রাঁচি, বারাণসী, ভুপাল, কোচিন, দেরাদুন – ভারতবর্ষের এমন একটা শহরকে আপনি দেখাতে পারবেন, যেই শহরে ভোটের দিন গন্ডগোল হয়! কলকাতায় হয়, কারন কলকাতায় এখন থার্ডক্লাস মানুষেরা থাকে, অন্য রাজ্যের ছেলেমেয়েরা নেতামন্ত্রীদের রাস্তায় দেখলেও চিনবেনা আর কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে নেতা মন্ত্রী দেখলেই অসভ্য বাঙালি নিজস্বী নিতে ব্যাস্ত!!!

কলকাতা বর্তমানে একটা মৃত শহরে পরিণত হয়েছে, আর এই মৃত শহরের বাসিন্দারা একবার নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে ভয় পায়না, তারা ভাবেনা, তাদের সন্তান বড় হলে তারা কি এই নির্লজ্জ শহরে দু মুঠো খাবার জোগাড় করতে পারবে না? নাকি দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদের মত শহরে গিয়ে অন্য জাতের দয়া ভিক্ষা করে খেতে হবে!

অবশ্য বাংলা এখন ভিক্ষাতেই খুশি!

তাই তো বাঙালি আজ কাঙালি!

রবীন্দ্রনাথ বুর্জোয়া কবি—এই অভিযোগের উৎস কোথায়

“রবীন্দ্রনাথ বুর্জোয়া কবি”—এই অভিযোগটা আজকাল যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেটা মূলত রাজনৈতিক প্রচার। বিশেষ করে দক্ষিণপন্থী বয়ানে এটি এমনভাবে হাজির করা হয়, যেন গোটা বামপন্থী আন্দোলনই রবীন্দ্রনাথকে পরিকল্পিতভাবে বাতিল করে দিয়েছিল। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টা এত সরল নয়।

এই অভিযোগের উৎস খুঁজতে গেলে আমাদের যেতে হয় চল্লিশের দশকের বামপন্থী সাহিত্য বিতর্কের ভেতরে। সেখানে কিছু মার্কসবাদী সমালোচক রবীন্দ্রনাথের দর্শন, ভাববাদ এবং শ্রেণি-অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্ন তোলা আর “গালাগালি” এক জিনিস নয়। এই পার্থক্যটাই ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

ভবানী সেনের মূল্যায়ন: প্রেক্ষাপট ও সীমাবদ্ধতা

‘মার্কসবাদী’ পত্রিকায় “বাংলা প্রগতি সাহিত্যের আত্মসমালোচনা” প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেছিলেন ভবানী সেন (ছদ্মনাম: রবীন্দ্র গুপ্ত)। সেখানে “বুর্জোয়া”, “ভাববাদী” ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।

কিন্তু দুটো বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার।
প্রথমত, এটি ছিল একজন সমালোচকের ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, কোনো দলীয় ঘোষণাপত্র নয়।
দ্বিতীয়ত, ওই সময়ে মার্কসবাদী সাহিত্য সমালোচনায় শ্রেণি–বিশ্লেষণ ছিল একটি প্রচলিত তাত্ত্বিক টুল। “বুর্জোয়া” শব্দটি তখন আজকের মতো গালি হিসেবে নয়, বরং একটি দার্শনিক ক্যাটাগরি হিসেবে ব্যবহৃত হত।

এই সীমাবদ্ধতা না বুঝে পুরো বামপন্থী চিন্তাকে একাকার করে দেখানোটা ইতিহাসের সঙ্গে অসৎ ব্যবহার।

রবীন্দ্রনাথ নিজে কি নিজেকে বুর্জোয়া ভাবতেন

এখানে একেবারে প্রাথমিক উৎসে যাওয়া যাক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই একটি চিঠিতে (১৭.০৩.১৯৩৯, অমিয় চক্রবর্তীকে লেখা) স্পষ্টভাবে বলেন—

“শ্রেণীওয়ালাদের মতে এসব কবিতা হয়তো প্রোলিটেরিয়েট, কিন্তু আমি তো জাত-বুর্জোয়া…”

এই বক্তব্য থেকে দুটো জিনিস পরিষ্কার।
এক—রবীন্দ্রনাথ নিজের সামাজিক শ্রেণি সম্পর্কে বিভ্রান্ত ছিলেন না।
দুই—তিনি শ্রেণিগত অবস্থান স্বীকার করলেও শিল্পমূল্যকে সেখানে সীমাবদ্ধ করেননি।

অর্থাৎ, বুর্জোয়া শ্রেণিতে জন্ম নেওয়া মানেই বুর্জোয়া চেতনার প্রচারক—এই সরল সমীকরণ তিনি নিজেই মানতেন না।

বেদের আলোকে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ

কমিউনিস্ট পার্টির সামগ্রিক অবস্থান কী ছিল

ভবানী সেনের লেখা থেকেই যদি গোটা কমিউনিস্ট পার্টির অবস্থান নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সেটা হবে ঐতিহাসিক ভুল। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির বহু নেতা রবীন্দ্রনাথকে গভীর শ্রদ্ধার চোখেই দেখেছেন।

বিশেষ করে ১৯৪১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রান্ত হওয়ার পর বামপন্থী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা একেবারে ভিন্ন ছবি দেখায়। পার্টির নীতি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং রবীন্দ্রনাথের অবস্থানের মধ্যে তখন স্পষ্ট সংযোগ তৈরি হয়।

রবীন্দ্রনাথ ও সোভিয়েত ইউনিয়ন: সম্পর্ক ও সমর্থন

হিটলার সোভিয়েত আক্রমণের পর গঠিত হয় “ফ্রেন্ডস অফ সোভিয়েত ইউনিয়ন”। এই সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হতে রাজি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ—যখন তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছে, তখনও।

তিনি শুধু নামমাত্র সমর্থন দেননি। বরং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সম্পর্কে কমিউনিস্টদের সাবধান করে দিয়েছিলেন এবং পার্টির প্রস্তাব পড়ে পুলকিত হয়েছিলেন। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে রবীন্দ্রনাথ বাস্তব রাজনৈতিক প্রশ্নে সমাজবাদী শক্তির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যদিও তিনি কোনো দলীয় রাজনীতির মানুষ ছিলেন না।

ভবানী সেনের পরবর্তী অবস্থান পরিবর্তন

পরবর্তীকালে ভবানী সেন নিজেই তাঁর আগের মূল্যায়ন অনেকটাই সংশোধন করেন। “একজন মনস্বী ও একটি শতাব্দী” প্রবন্ধে তিনি স্বীকার করেন—রবীন্দ্রনাথ ভাববাদের সীমা অতিক্রম করে মানব জীবনের গভীর সত্যকে শিল্পে রূপ দিতে পেরেছিলেন।

এখানে রবীন্দ্রনাথকে আর যান্ত্রিক শ্রেণি–চশমায় দেখা হয়নি। বরং “মহান শিল্পী” হিসেবে তাঁর স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করা হয়েছে। এই আত্মসমালোচনা প্রমাণ করে যে আগের মূল্যায়নকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরা যায় না।

রবীন্দ্রনাথ ও সমাজবাদ নিয়ে সংশয় ও উপলব্ধি

রবীন্দ্রনাথ আজীবন প্রশ্ন করেছেন—সমাজবাদ কীভাবে মানবিক হবে, ক্ষমতা কীভাবে মানুষের ওপর চেপে বসবে না। তাঁর সংশয় ছিল, কিন্তু তা বিরোধিতা ছিল না।

জীবনের শেষ দিকে এসে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি তাঁর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। মৃত্যুশয্যায় শুয়ে তিনি যুদ্ধের খবর শুনে আনন্দিত হতেন এবং বলেছিলেন—“সোভিয়েত কখনো হার মানবে না।” এই বিশ্বাস নিছক কাব্যিক আবেগ নয়, রাজনৈতিক উপলব্ধির ফল।

রবীন্দ্রনাথ বুর্জোয়া কবি—মিথ না বাস্তব

সব দিক মিলিয়ে বলা যায়—
হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথ বুর্জোয়া শ্রেণিতে জন্মেছিলেন।
কিন্তু না, তাঁকে “বুর্জোয়া কবি” বলে বাতিল করে দেওয়া যায় না।

এই অভিযোগকে যেভাবে আজ রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো হয়েছে, তা মূলত অর্ধসত্যের অপপ্রচার। ইতিহাস, চিঠিপত্র, দলীয় নথি ও পরবর্তী মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথ ছিলেন শ্রেণির ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কবি।

আর ঠিক এই কারণেই তিনি একপক্ষের সম্পত্তি নন—তিনি প্রশ্নের, বিতর্কের, আর মুক্ত চিন্তার।

বেদের আলোকে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ—এই বিষয়টি আজকের ভারতে এক গভীর সামাজিক, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা যারা হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি, তারা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি যে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন ও পবিত্র গ্রন্থ হলো বেদ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বেদ অপৌরুষেয়—অর্থাৎ মানুষের রচিত নয়, ভগবান ব্রহ্মার মুখনিঃসৃত। তাই বেদকে নিত্য, শাশ্বত ও অভ্রান্ত বলে মনে করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় আচরণ, সামাজিক বিধান ও শাস্ত্রব্যাখ্যার মধ্যে যে পরিবর্তন এসেছে, তা এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে—বেদের দৃষ্টিতে গোমাংস আহার কি আদৌ নিষিদ্ধ ছিল?

আমরা যারা হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি, তারা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি যে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন ও পবিত্র গ্রন্থ হলো বেদ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বেদ অপৌরুষেয়—অর্থাৎ মানুষের রচিত নয়, ভগবান ব্রহ্মার মুখনিঃসৃত। তাই বেদকে নিত্য, শাশ্বত ও অভ্রান্ত বলে মনে করা হয়।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মীয় আচরণ, সামাজিক বিধান ও শাস্ত্রব্যাখ্যার মধ্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত ও সংবেদনশীল একটি বিষয় হলো—গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ। সত্যিই কি বেদের দৃষ্টিতে গোমাংস আহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল? নাকি বাস্তবতা ছিল ভিন্ন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে বেদের মূল পাঠ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে।

হিন্দু ধর্মে বেদের গুরুত্ব ও পবিত্রতা

হিন্দু ধর্মে বেদকে সর্বোচ্চ ধর্মগ্রন্থ হিসেবে মানা হয়। ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ—এই চার বেদকে হিন্দু দর্শনের ভিত্তি বলা হয়। ধর্ম, যজ্ঞ, সমাজব্যবস্থা, জীবনাচার—সব কিছুরই মূল উৎস হিসেবে বেদের কথা বলা হয়।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। বেদকে পবিত্র মানা হলেও, বেদের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ যুগে যুগে ভিন্ন হয়েছে। সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী আচরণগত নিয়ম বদলেছে, কিন্তু মূল গ্রন্থ অপরিবর্তিত থেকেছে।

বর্তমান ভারতে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ বিতর্কের প্রেক্ষাপট

আধুনিক ভারতে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের বিষয়। বহু রাজ্যে গোহত্যা আইনত নিষিদ্ধ, কোথাও কোথাও গোমাংস ভক্ষণও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সাধারণভাবে এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়, তা হলো—গো হিন্দুদের কাছে পবিত্র, তাই গোহত্যা হিন্দু ধর্মবিরোধী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ধারণা কি সরাসরি বেদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে? নাকি এটি পরবর্তী কালের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ফল?

ঋগ্বেদের আলোকে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ

ঋগ্বেদ পাঠ করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে বৈদিক সমাজে খাদ্য হিসেবে গো, মহিষ এবং অশ্বের মাংসের ব্যবহার অস্বাভাবিক ছিল না। বরং বহু ক্ষেত্রে তা প্রিয় খাদ্য হিসেবেই বিবেচিত হতো। বিশেষত ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের কয়েকটি ঋকে গোমাংস ভক্ষণ ও গোহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উল্লেখ পাওয়া যায়, যা এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ঋগ্বেদের ১০/৮৯/১৪ নম্বর ঋকে ইন্দ্রের অস্ত্র দ্বারা রাক্ষস নিধনের তুলনা করা হয়েছে গোহত্যার স্থানের সঙ্গে। সেখানে বলা হয়েছে—
যেমন নির্দিষ্ট স্থানে গাভীগণ হত হয়, তেমনি ইন্দ্রের অস্ত্র দ্বারা শত্রুরা পৃথিবীতে পতিত হয়।
এই ঋকের টীকায় অনুবাদক রমেশ চন্দ্র দত্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, গোহত্যা যদি সমাজে প্রচলিত না থাকত, তবে তার জন্য আলাদা স্থানের উল্লেখ থাকার কোনো অর্থই হতো না। অর্থাৎ এটি একটি স্বীকৃত সামাজিক প্রথার ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া ঋগ্বেদের ১০/৮৬/১৩ নম্বর ঋকে ইন্দ্রের উদ্দেশে বৃষ ভক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সেখানে বৃষাকপিবনিতিকে উদ্দেশ করে বলা হয়—তাঁর বৃষদের ইন্দ্র ভক্ষণ করুন এবং উৎকৃষ্ট হোমদ্রব্য গ্রহণ করুন। এই ঋক থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে বৃষ বা গরুর মাংস দেবতার ভোগ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

এই বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয় ঋগ্বেদের ১০/৮৬/১৪ নম্বর ঋকে, যেখানে পঞ্চদশ বা বিংশ বৃষ রান্না করার অনুরোধ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে—এই বৃষভক্ষণ দ্বারা শরীরের স্থূলতা বৃদ্ধি পায় এবং উদর পরিপূর্ণ হয়। এই বর্ণনা নিঃসন্দেহে গোমাংস ভোজনের বাস্তব ও স্বাভাবিক চিত্র তুলে ধরে।

ঋগ্বেদের ১০/৭৯/৬ নম্বর ঋকে অগ্নির উদ্দেশে বলা হয়েছে—যেমন খড়্গ দ্বারা গাভীকে খণ্ড খণ্ড করে কাটা হয়, তেমনি আহার্য ভোজনের সময় খাদ্যকে অংশে অংশে বিভক্ত করা হয়। এই ঋক থেকে অনুমান করা যায় যে খাদ্যের প্রয়োজনে গাভীকে পর্বে পর্বে কেটে ভোজন করা হত, যা গোমাংস আহারের একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

উল্লেখযোগ্য যে, উপরিউক্ত সমস্ত ঋকের টীকাসমূহ ঋগ্বেদের প্রখ্যাত অনুবাদক রমেশ চন্দ্র দত্ত প্রদত্ত। তাঁর ব্যাখ্যা অনুসারে, বৈদিক যুগে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ কোনো ব্যতিক্রমী বা নিষিদ্ধ কাজ ছিল না, বরং তা সমাজজীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই বিবেচিত হতো।

কিছু ঋকে গোহত্যার জন্য নির্দিষ্ট স্থানের উল্লেখ আছে, যা থেকে বোঝা যায়—এই প্রথা সমাজে প্রচলিত ছিল। আবার কোথাও দেবতাদের উদ্দেশে পশু রান্না ও ভোজনের কথাও বলা হয়েছে। এসব বর্ণনা থেকে অনুমান করা যায় যে বৈদিক সমাজে গোমাংস আহার অস্বাভাবিক বা নিষিদ্ধ ছিল না।

ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক গল্প: একটি ইন্টারভিউ ও ডিজিটাল গভর্নেন্সের নির্মম সত্য

বৈদিক সমাজে খাদ্যাভ্যাস: গোমাংস, মহিষ ও অশ্বের ব্যবহার

বৈদিক সমাজ মূলত ছিল যজ্ঞকেন্দ্রিক। যজ্ঞে বিভিন্ন পশু আহুতি দেওয়া হতো এবং যজ্ঞশেষে সেই আহার সমাজে ভোজন করা হত। শুধু গরু নয়, মহিষ ও অশ্বের মাংসও খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে বৈদিক সাহিত্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এতে স্পষ্ট হয় যে সেই সময় খাদ্যাভ্যাস আজকের মতো ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞায় আবদ্ধ ছিল না। জীবনযাপন ছিল অনেক বেশি বাস্তববাদী ও পরিবেশ-নির্ভর।

যজুর্বেদ ও গৃহ্যসূত্রে গোমাংস ভোজনের নির্দেশ

যজুর্বেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গৃহ্যসূত্রগুলোতে অতিথি আপ্যায়নের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, গৃহে অতিথি এলে তাকে যথোচিত সম্মান দিতে হবে, এমনকি গোমাংস পরিবেশন করেও।

এই নির্দেশ শুধু অতিথির জন্য নয়, সঙ্গে ব্রাহ্মণদের আহ্বান করে ভোজের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ গোমাংস ভক্ষণকে তখন ধর্মবিরোধী নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হতো।

স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ

স্বামী বিবেকানন্দ এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, বেদ পাঠ করলে বোঝা যায় যে একসময় গোহত্যা ও গোমাংস ভোজন সমাজে প্রচলিত ছিল, বিশেষ করে অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, পরবর্তীকালে ভারতীয় সমাজ কৃষিনির্ভর হয়ে ওঠায় গরুর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়ে যায়। ভালো ষাঁড় ও গাভী হত্যা করলে কৃষিব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এই বাস্তবতা থেকেই ধীরে ধীরে গোহত্যাকে মহাপাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অর্থাৎ এটি ছিল ধর্মীয় পরিবর্তনের চেয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনের ফল।

বেদ, স্মৃতি ও যুগপরিবর্তন: শাস্ত্রের ব্যাখ্যার বিবর্তন

স্বামী বিবেকানন্দ পরিষ্কারভাবে বলেছেন—বেদ চিরকাল একরূপ থাকবে, কিন্তু স্মৃতি ও সামাজিক বিধান যুগে যুগে বদলাবে। সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী ধর্মীয় আচরণও পরিবর্তিত হবে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে বোঝা যায়, আজ যে গোহত্যা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত, তা বেদের সরাসরি নির্দেশ নয়; বরং পরবর্তী কালের সামাজিক সিদ্ধান্ত।

উপসংহার: বেদের বাণী ও সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা

বেদের আলোকে বিচার করলে স্পষ্ট হয় যে বৈদিক যুগে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ নিষিদ্ধ ছিল না। বরং তা সমাজজীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিভিত্তিক সমাজ, অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও নৈতিক বিবেচনা থেকে এই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে।

আজকের ভারতে গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ নিয়ে যে সাম্প্রদায়িক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার সমাধান খুঁজতে হলে ইতিহাস ও শাস্ত্রকে আবেগ নয়, যুক্তির আলোকে বুঝতে হবে।

বেদের বাণী শিরোধার্য হলে হয়তো আমরা আরও সহনশীল, বাস্তববাদী ও মানবিক পথের সন্ধান পেতে পারি।

ভূমিকা

ভারতীয় সিনেমার জগতে Nana Patekar এক শক্তিশালী অভিনয়শিল্পীর নাম। কিন্তু পর্দার বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে—মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক নিবেদিত সমাজকর্মী। Nana Patekar social work আজ শুধু একটি শব্দগুচ্ছ নয়, এটি গ্রামবাংলা ও কৃষক সমাজের কাছে ভরসার নাম।

এই লেখায় আমরা জানব Nana Patekar social work কীভাবে NAAM Foundation–এর মাধ্যমে বাস্তব রূপ পেয়েছে।

NAAM Foundation কী?

NAAM Foundation প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে। এর প্রধান লক্ষ্য—

  • কৃষক কল্যাণ
  • খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ
  • জল সংরক্ষণ
  • গ্রামীণ উন্নয়ন

Nana Patekar এবং সমাজকর্মী Makarand Anaspure এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। “NAAM” নামটি এসেছে Nana–Anaspure–Maharashtra থেকে, যা এর শিকড় ও লক্ষ্যকে স্পষ্ট করে।

Nana Patekar social work-এর মূল ক্ষেত্র

১. কৃষক সহায়তা

ভারতের কৃষক সংকটের সময় Nana Patekar social work সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে।

  • আত্মহত্যায় মৃত কৃষকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা
  • সরাসরি হাতে-হাতে সাহায্য
  • কোনও দালাল বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সহায়তা

এই পদ্ধতির জন্যই মানুষ NAAM Foundation-এর উপর আস্থা রাখে।

২. জল সংরক্ষণ ও খরা মোকাবিলা

খরা কৃষকদের সবচেয়ে বড় শত্রু। Nana Patekar social work-এর বড় অংশ জুড়ে আছে—

  • নদী ও জলাশয় খনন
  • চেক ড্যাম নির্মাণ
  • গ্রামের পানীয় জলের সমস্যা সমাধান

এই কাজগুলি এককালীন সাহায্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

৩. দুর্যোগ ত্রাণ

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা কোভিডের মতো সংকটে NAAM Foundation দ্রুত মাঠে নেমেছে।

  • খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ
  • জরুরি আর্থিক সহায়তা
  • ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো

এখানেও Nana Patekar social work মানে শুধু অর্থ নয়, ব্যক্তিগত উপস্থিতি।

Nana Patekar কেন আলাদা?

অনেক তারকাই দান করেন, কিন্তু Nana Patekar আলাদা কারণ—

  • তিনি প্রচার এড়িয়ে চলেন
  • নিজে গ্রামে যান
  • সাধারণ জীবনযাপন করেন
  • নিজের উপার্জনের বড় অংশ দান করেন

তাঁর কাছে সমাজসেবা কোনও “ইমেজ বিল্ডিং” নয়, এটি দায়িত্ব।

Nana Patekar social work কেন মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে?

  • স্বচ্ছতা
  • সরাসরি কাজ
  • রাজনীতিমুক্ত অবস্থান
  • বাস্তব ফলাফল

এই কারণেই Nana Patekar social work আজ একটি বিশ্বাসযোগ্য নাম।

সমাজে প্রভাব

এখন পর্যন্ত NAAM Foundation—

  • হাজার হাজার কৃষক পরিবারকে সহায়তা করেছে
  • বহু গ্রামে জল সংকট কমিয়েছে
  • দুর্যোগের সময় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে

এই প্রভাব ধীরে হলেও গভীর।

আপনি কীভাবে যুক্ত হতে পারেন?

আপনিও Nana Patekar social work-এর অংশ হতে পারেন—

  • অনুদান দিয়ে
  • স্বেচ্ছাসেবক হয়ে
  • এই কাজের কথা ছড়িয়ে দিয়ে

ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

উপসংহার

Nana Patekar social work আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমাজসেবা মানে বড় কথা বলা নয়, চুপচাপ কাজ করা। NAAM Foundation-এর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, একজন মানুষ চাইলে কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন।

এই কাজ শুধু আজ নয়, ভবিষ্যতের জন্যও অনুপ্রেরণা।

মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা, স্পার্টাকাসকে
প্রশ্ন করেছিল বৃদ্ধা।

আমরা তো লড়েছি
দুর্বলের হয়ে,
স্বাধীনতার জন্যে,
বঞ্চনার অবসানের জন্য,
তাও এই পরাজয়! কেন স্পার্টাকাস?

স্পার্টাকাসের গা’থেকে
চুঁইয়ে পড়া রক্তে
লাল হয়ে যাচ্ছিল
বৃদ্ধার সাদা চুল।
গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল

স্পার্টাকাস বলতে চাইছিলো
কিন্তু বলতে পারলোনা-
‘সত্য জিতবে বলে তো আমরা সত্যের পক্ষে দাঁড়াই না!
বার বার সত্য হারে-
তত্ত্বের খোলস থেকে
যখনই রাস্তায় পা রাখে
গৌরবময় বীরগাথায়
স্থান পাওয়ার আগে
বহু বার সত্যের হত্যা হয়।’

“সত্যকে তো একাকী
মরতে দেওয়া চলেনা!”
তার নিশ্চিত পরাজয়েও পাশে অবিচল দাঁড়াতে হয়।

কেবল তাহলেই
কবিতায় সত্য বাঁচবে,
বিজয় সংগীতে বেজে উঠবে
সত্যের সুর।
সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হয়
আগামীর জন্য।
সত্যের মৃত দেহের থেকে
নবীন সত্যের চারাগাছ জন্ম নেবে।
বেড়ে ওঠা সেই গাছের ছায়ায়
বেড়ে উঠবে আগামীর সন্তানেরা
ওরাই একদিন সেই গাছের
অরণ্য গড়ে তুলবে।

আর অরণ্যকে কি সহজে পরাজিত করা যায়?

স্পার্টাকাস পরাজিত হয়েছিল।
শাসকের থুতু বর্ষিত হচ্ছিল।

কিন্ত বধ্যভূমিতেও
সত্যের পক্ষে ঋজু ছিলেন স্পার্টাকাস।
স্পার্টাকাস নিহত হয়েছিলেন।

উত্তর না শুনেও
বৃদ্ধা সেদিন ঘরে ফিরে গেছিলো
সমস্ত উত্তর নিয়ে ।

কবি: অমিত ঘোষ,চন্দননগর

সন্তানই যে দেখবে আমায়,
সেই ধারণা ছাড়তে হবে /
তোমরা যারা চমকে তাকাও,
প্রশ্ন করো ‘আর কে তবে’//

তাদের বলি,সে এক সময়,
বাড়ি হতো সাত পুরুষের /
মানুষ ছিলো নোঙর বাঁধা,
বাসায় ফিরে আসত সে ফের //

কাজের শেষে,বৃদ্ধ হলে
জায়গা নিতো প্রজন্ম তার /
পাল্টে গেছে সে সব এখন,
যুগটা এখন অস্থিরতার //

মালদা যদি দাদুর বাড়ি,
বাবা থাকেন বেঙ্গালুরু /
আরো সুদূর রাজ্যে কোনো
ছেলের চাকরি জীবন শুরু //

কিংবা মেয়ে বিদেশ গেছে
উচ্চতর জ্ঞানের খোঁজে /
যেখানে যাক,প্রজন্মের আজ
হয়না ফেরা খুব সহজে //

চারিদিকে তাকিয়ে দেখো,
গজায় হাজার বৃদ্ধ আবাস /
সাপ্লাই আর ডিমাণ্ড বুঝে,
ইকনমির সূত্র তা খাস //

সব সন্তান পাষাণ-হৃদয়,
সেই ধারণার ভিত কিছু নেই /
স্মৃতির ভেতর দিয়ে দেখি,
ভুল হয়ে যায় হয়তো তাতেই //

সে এক সময় ছুটি হলে,
ফিরতো সবাই ‘দেশের বাড়ি’/
মোড়ের মাথার গাছটা দেখেই
বুকের ভেতর হাঁকপাতাড়ি //

সে এক সময়,মেজো সেজো
ন’রাঙাদের সম্বোধনে /
ঘর বলে এক চিরস্থায়ী
আকাশ ছিলো সবার মনে //

এখন সময় বদলে গেছে,
সাকিন মাপা স্কোয়ার ফুটে /
দিদুন কেমন আছো বলে
আসে না আর নাতনি ছুটে //

কারণ তাদের বাবা মায়ের
বদলে গেছে ছুটির মানে /
‘ট্যুর’ ‘ট্রিপ’ আর ‘ট্র্যাভেলস’ ওলা
তাদের সেসব খবর জানে //

ভিডিও চ্যাটই এখন সবার
কুশল নেওয়ার নতুন বাহন /
ওষুধ খাবার পৌঁছে দেওয়ার
অ্যাপ হয়েছেন বিপত্তারণ //

এমন ভাবা খুব অকারণ
প্রজন্মে নেই ভালোবাসা /
মোবাইলেতে এখন কঠিন
কাজের থেকে বাইরে আসা //

এমন অনেক মানুষ পাবে
নিত্য যারা খোঁজও রাখে /
দূরের থেকে চেষ্টা করে,
বাপ মা যাতে ভালো থাকে //

কিন্তু তাদের হাত পা বাঁধা,
কাজের ঘানির পেষাই এত /
করবে কি আর,পেট চালাতে,
যুগের দাবী এখন সে তো //

তাই বলি কি,সবাই এখন
ঘরকে বরং ‘কুলায়’ ভাবি /
উড়ুক ছানা ডানার জোরে,
সুখের কাছে সেটাই দাবী //

সবাই যদি মনের মতন
পড়শি এবং বন্ধু বাছি /
পাকাচুলেও থাকবে যারা
ডাকার মতো কাছাকাছি //

যাদের সাথে রোজের যাপন
‘কেমন আছো’র বাইরে গিয়ে /
জীবন যদি সবাই ঘিরি
এমন কিছু মানুষ দিয়ে //

সন্তানেরে বলবে যারা
‘আসতে হবে না রে তোকে’/
তবেই জেনো কাউকে তবু
পাশে পাবো শেষ দশকে //

চলো সবাই মানিয়ে নিই,
দুনিয়া দেখি নতুন চোখে /
“আমরা কিন্তু দায় নই”,
বাবা মা’দের বার্তা হোক এ //

ছোট্টো ক’টা পাখির ছানা
শেখেনি তারা মেলতে ডানা

মা গেছে উড়ে, দূরে কোথাও
আনতে খাবার, শস্যদানা।

খুঁজতে খুঁজতে বেলা কাবার
পেয়েছে মা, খানিক খাবার

পোকা-মাকড়‌ও পেয়েছে কিছু
আর দেরি নয় ফিরবে এবার।

অভুক্ত ছা’রা আছে বাসায়
লালচে আকাশ, তাই খর-পায়

শেষ পোকাটা, ধরতে গিয়ে
ফাঁদের ফাঁসে, জড়িয়ে যায়।

মায়ের তো ফেরা, হলো না ঘরে
পরে, বাচ্চাগুলোও শুকিয়ে মরে।

কবিতা লিখেছেন – সৌরেন্দুশেখর বিশ্বাস

গাহি সাম্যের গান
তারুণ্য ছন্দে, ক্ষণে ক্ষণে দুলিবে প্রাণ।

এসো হে সবুজ,
গহণ আরণ্যক;
আলো -ছায়াময় গোধূলিতে,
শাণিত হবে শত প্রাণের হিল্লোল,
তর্জন-গর্জনের ছন্দে বহিবে
বির্মূত কোন তিমির রাতে।

স্বচ্ছ ফেনিল তীরের বেলাভূমে,
দাঁড়িয়ে ঠাই!
করিব সত্যের অবগাহন।
রক্তিম আভায় ভরিবে,
জোৎস্না রাত।
সুন্দর এক সকালের প্রতীক্ষায়!

কবিতা লিখেছেন – -Shabiha Suchi

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা কেন আজ সবচেয়ে জরুরি

গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এক রাতে ঘুম ভাঙল মুরগির বাচ্চার কিচিরমিচিরে।
জানতে পারলাম, মা মুরগিকে নিচে রেখে বাচ্চাগুলো আলাদা করে দোতলার বারান্দায় রাখা হয়েছে। কারণ একটাই—বাচ্চা যদি বেশি দিন মায়ের সঙ্গে থাকে, তবে দেরিতে ডিম দেয়।

এই ছোট ঘটনা থেকেই বড় প্রশ্নটা মাথায় এলো—
আমরা কি আমাদের ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার বদলে তাদের অতিরিক্ত নিরাপত্তায় আটকে রাখছি?

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা বনাম ডানার নিচে রেখে দেওয়া

প্রকৃতির একটা নিয়ম আছে।
যে বেশি আশ্রয়ে থাকে, সে দায়িত্ব নিতে শেখে না।

আজকের সমাজে আমরা অনেক সময় ছেলেদের ভালোবাসার নামে বাস্তবতা থেকে দূরে রাখি।
ফলাফল?
বয়স ত্রিশ ছুঁলেও মানসিকভাবে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে না।

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা মানে শুধু পড়াশোনা করানো নয়—
সময়মতো দায়িত্ব নিতে শেখানো।

ষোলো বছরেই প্রাপ্তবয়স্ক—একটি বাস্তব উদাহরণ

আমার বন্ধু শরিফ।
সে দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি ব্রিটিশ।

যেদিন তার বয়স ষোলো পেরিয়ে সতেরোতে পড়ল, সেদিন তার বাবা বলেছিলেন—
“আজ থেকে তুমি আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক। নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।”

পড়াশোনার খরচ, বাড়ি ভাড়া, খাবার—সব নিজেই চালাতে হয়েছে।
কোনো ছাড় ছিল না।

এই কঠোর সিদ্ধান্ত শরিফকে খুব কষ্ট দিয়েছিল।
কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় তার পরিপক্বতা।

দায়িত্ব আগে এলে পরিপক্বতা দ্রুত আসে

এই অভিজ্ঞতা শরিফকে অল্প বয়সেই শক্ত করে গড়ে তুলেছিল।
উনিশ বছর বয়সে বিয়ে।
চল্লিশের মাঝামাঝি বয়সেই সন্তানেরা স্বনির্ভর।

আজ সে সমাজে দায়িত্ববান একজন মানুষ।
অসংখ্য মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা যে জীবনের মান বদলে দেয়—শরিফ তার জীবন্ত প্রমাণ।

আমাদের সমাজে দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রজন্ম কেন তৈরি হচ্ছে

আমাদের সমাজে এখন অসংখ্য ছেলে দেখা যায়—

  • বয়স ত্রিশ
  • লক্ষ্য নেই
  • স্থিরতা নেই
  • দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষমতা নেই

বাবা–মা বলেন,
“আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের ছেলে যেন কষ্ট না পায়।”

কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—
এই অতিরিক্ত সুরক্ষা ছেলেদের দুর্বল করে তোলে।

শিক্ষা দিলেই কি ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা যায়?

অনেক অভিভাবক মনে করেন,
ভালো শিক্ষা মানেই সব সমস্যার সমাধান।

ফলে ছেলেমেয়েদের বাস্তব জীবন থেকে দূরে রেখে তৈরি করা হয়—
“শিক্ষিত কিন্তু অকার্যকর মানুষ।”

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন—

  • বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি করা
  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া
  • ভুল করার স্বাধীনতা

দেরিতে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষতি—একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি

আমি নিজে ড্রাইভিং শিখেছি তেত্রিশ বছর বয়সে।
এক বন্ধু বলেছিল—
“তুমি ভালো ড্রাইভার হবে না, তুমি হবে সাবধানে চলা আংকেল ড্রাইভার।”

কথাটা সত্যি।
দেরিতে শেখা মানে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস—দুটোই কমে যাওয়া।

ঠিক তেমনি, দেরিতে দায়িত্ব নেওয়া ছেলেদের সক্ষমতাও কমিয়ে দেয়।

কঠোরতা একদিন শ্রদ্ধায় বদলায়

শরিফ তার বাবাকে একসময় ঘৃণা করত।
কিন্তু বিয়ের দুই বছর পর ব্যবসার জন্য যখন অর্থ দরকার হলো,
বাবা তখন তার হাতে জমিয়ে রাখা টাকা তুলে দিয়েছিলেন।

বলেছিলেন—
“এই টাকা তোমারই। তোমার কঠিন দিনের জন্য রেখে দিয়েছিলাম।”

সেই দিন থেকেই ঘৃণা বদলে যায় শ্রদ্ধায়।

শেষ কথা—প্রকৃতির নিয়ম কেউ ভাঙতে পারে না

মুরগির বাচ্চা যেমন ডানার নিচে থাকলে ডিম দেয় না,
তেমনি ছেলে যতদিন অতিরিক্ত আশ্রয়ে থাকবে, দায়িত্বশীল হবে না।

ছেলেদের দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলা কোনো নিষ্ঠুরতা নয়।
এটা ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।